STORY BEHIND THE SONG.
গানের পিছনের গল্প।


" ছোটদের বড়দের সকলের
... আমার দেশ সব মানুষের "

মুক্তিযুদ্ধের গান


শিল্পীঃ রথীন্দ্রনাথ রায়
সুরকারঃ খাদেমুল ইসলাম বসুনিয়া
গীতিকারঃ আলী-মহসিন-রাজা


মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত গানগুলো রক্তে ধরিয়ে দিত আগুন। একেকটি গান যেন একেকটি মারণাস্ত্র। মুক্তিযোদ্ধারা ক্যাম্পে বসে শুনতেন সেই গান। এ যেন সমরনায়কের নির্দেশ। সেই নির্দেশিত পথে লক্ষ্যে পৌঁছানোর তাড়না। গানগুলো মুক্তিসংগ্রামকে বেগবান করেছে। দেশবাসীর মনে জুগিয়েছে অপরিসীম সাহস। অনেক গান আছে যেগুলো নিয়মিতভাবে প্রচারিত হত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে। তেমনি একটি গান 'ছোটদের বড়দের সকলের ... আমার দেশ সব মানুষের'।

প্রতিটি সৃজনশীল কাজের নেপথ্যে একটি ঘটনা থাকে। ‘ছোটদের বড়দের সকলের... আমার দেশ সব মানুষের’ এই জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত গানটির নেপথ্য ইতিহাসটি একটু ভিন্ন এবং তা এ পর্যন্ত অনেকেরই অজানা।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রংপুরে বসবাসকারী তিন বন্ধু বন্দে আলী, মহসিন আলী এবং জেড এ রাজা সাহিত্যচর্চার সুবাদে একদিন চায়ের আড্ডায় মিলিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখে ফেললেন এই গানটি। গানটির গীতিকার হিসেবে তিন বন্ধুর নামই যুক্ত হয়। বন্দে আলীর ‘আলী’, মহসিন আলীর ‘মহসিন’ এবং জেড এ রাজার ‘রাজা’ নিয়ে গীতিকার হিসেবে নাম হলো ‘আলী-মহসিন-রাজা’। আজ দু’বন্ধু বেঁচে নেই কিন্তু জেড এ রাজা আছেন আমাদের মাঝে। 

সুরকার খাদেমুল ইসলাম বসুনিয়া


১৯৬৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর রংপুর বেতার কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়। সেদিনই খাদেমুল ইসলাম বসুনিয়া প্রথম সংগীত পরিচালক হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগীত পরিচালনা করেন। আলোচ্য গানটিতে সুর করে প্রথম কণ্ঠ দেন রংপুরের এই কৃতি সন্তান খাদেমুল ইসলাম বসুনিয়া। খাদেমুল ইসলাম বসুনিয়ার সুরে পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে রথীন্দ্রনাথ রায়ের কণ্ঠে গানটি প্রচারিত হলে তা কোটি কোটি মুক্তিকামী বাঙালিকে অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি ২০১৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।



Comments

Popular posts from this blog