STORY BEHIND THE SONG.
গানের পিছনের গল্প।


" বাজে গো বীণা "

সুরকারঃ সলিল চৌধুরী
গীতিকারঃ সলিল চৌধুরী


১) " বাজে গো বীণা "/ জীমূত রায়



২)" বাজে গো বীণা " / মান্না দে
ছায়াছবিঃ মর্জিনা আবদাল্লা (১৯৭২)



'মর্জিনা আবদাল্লা' ছবির গান রেকর্ডিং হবে। স্টুডিওতে সব মিউজিশিয়ানরা এসে গেছেন। সুরকার সলিল চৌধুরী এলেন কিন্তু কোন গান না নিয়ে। এসেই একটা ঘরে ঢুকে গেলেন। বললেন চা পাঠিয়ে দিতে। ঘন্টাখানেক বাদে ঘর থেকে বেরোলেন 'বাজে গো বীণা' লিখে একেবারে সুরসহ তৈরি করে।

গীতিকার পুলক বন্দোপাধ্যায়-এর ঘনিষ্ঠ বন্ধু কণ্ঠশিল্পী দ্বিজেন মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন যে, সলিল চৌধুরী'র গানের ফাইনাল কথা কোনদিনই রেকর্ডিং-এর আগে হাতে পাননি। সময়ের চাপে অনেকেই এইভাবে গান তৈরি করেছেন। এভাবে সলিল চৌধুরী'র গানও তৈরি হতো।


এটা ঠিকই যে রবীন্দ্র সংগীতে গানের প্রথম লাইন দেখে যে তাল ধরা যায়, পুরো গানটা সেই একই তালে বাজে। প্রায় সাতানব্বই/আটানব্বই শতাংশ গানই এই ধরণের হয়। কিন্তু পরে এরকম আরও অনেক গানই বেরিয়েছে যেখানে রিপ্রেজেন্টেশনের তাগিদে একই গানে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন তাল ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন "বাজে গো বীণা" এই গানটাই ধরুন। এই গান শুরু হচ্ছে দ্রুত কাহারবা দিয়ে (মানে ঐ চার মাত্রার আর কি - আট মাত্রারও বলা যায়, সবই নির্ভর করে কি ভাবে গোনা হচ্ছে তার ওপরে), কিন্তু সেতার-এর সময় দ্রুত ত্রিতাল। গানে একটু ক্লাসিকাল টাচ আনার জন্য এই সেতার এবং ত্রিতালের আমদানি। এই গানের চাহিদার প্রয়োজনেই সলিল চৌধুরী এমনটি করেছেন।

নজরুলগীতিতে এমন একটা উদাহরণ দেয়া যায়। যেমন "ঝরা ফুলদ'লে কে অতিথি", গানটা প্রায় পুরোটাই দাদরা তালে, কিন্তু শেষ লাইন, 'কোয়েলিয়া কুহরে কু কু গীতি' সে জায়গাটা আবার কাহারবা তালে।

গানের সুরকারই ঠিক করে দেন গানটি কোন রাগে (অর্থাৎ সুরে) আর কোন তালে গাওয়া হবে। কিন্তু মার্গ সংগীতের বেলায় থাকে বন্দিশ বা নামকরা কারো রচিত মুখড়া। যেমন ধরুন সদারং বা সবরং রচিত মার্গ সংগীত। এখানে রচনাকারীই ঠিক করে দিয়েছেন যে কোন রাগে আর কোন তালে গাওয়া হবে।

Comments

Popular posts from this blog