STORY BEHIND THE SONG.
গানের পিছনের গল্প।
" হায়রে কিষাণ তোদেরই শীর্ণ দেহ "
মুক্তিযুদ্ধের গান
মূলশিল্পীঃ স্বপ্না রায়
সুরকারঃ বাসব চট্টোপাধ্যায় তপু
গীতিকারঃ ফেরদৌস হোসেন ভূঞা
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকা ছিল অনন্যসাধারণ। এই বেতার কেন্দ্র থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বাড়ানোর জন্য অসংখ্য অবিস্মরণী গান সৃষ্টি করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের গান আমাদের চেতনায় অভূতপূর্ব শিহরণ জাগিয়ে তোলে আজো। বাঙালির উত্থান পর্বে এক অপূর্ব নির্দশন এই মুক্তিযুদ্ধের গান। যখন রাজনৈতিক অগ্নিঝরা উত্তাপের প্রবাহ বাইরে তার বহু আগে থেকেই সঙ্গীত তৈরি করেছিলো হৃদয় অন্তরগত উত্তাপ। তাই অন্তর বাহির এক হয়ে নবশক্তির জন্ম দিয়েছিলো। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান মুক্তিযোদ্ধা তথা স্বাধীনতাকামী দেশের সকল মানুষের কাছে শক্তির উৎস রূপে কাজ করে। সেই অবিস্মরণীয় গান আমাদের চেতনায় আজো এক অদ্ভুত সম্মোহনে আত্মস্থ করে। হৃদয়ের অন্তস্থিত সত্যের উন্মেষ ঘটায় দারুণ সংহতিতে।
সেই সব গান এখনো আমাদের মুখে মুখে ফেরে। আমার মতে ওই সব অবিস্মরণী গানের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ গানটি হচ্ছে 'এক সাগর রক্তের বিনিময়ে'। গানটি গেয়েছিলেন স্বপ্না রায়। ঠাকুরপাড়া, কুমিল্লার মেয়ে। মুক্তিযুদ্ধের সময় মাত্র একুশ বা বাইশ বছরের তরুণী ছিলেন তিনি।
স্বপ্না রায় আরও একটি অবিস্মরণীয় গান গেয়েছিলেন ‘হায়রে কিষাণ তোদেরই শীর্ণ দেহ...’। এ গানের গীতিকার ফেরদৌস হোসেন ভূঞা। আর সুরকার এক সময়ের কুমিল্লার স্বনামধন্য গায়ক বাসব চট্টোপাধ্যায় তপু। ১৯৬৯-৭০ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ, পাখি-রুস্তম ক্যাবিনেটে, বাসব চট্টোপাধ্যায় তপু প্রমোদ সম্পাদক ছিলেন।
‘হায়রে কিষাণ তোদেরই শীর্ণ দেহ...’ শীর্ষক গানটি প্রসঙ্গে কুমিল্লার সঙ্গীত শিল্পী প্রেমাশীষ চৌধুরী বলেন,
"এ গানটি যখন বাসব বাসব চট্টোপাধ্যায়-এর বাসায় সৃষ্টি করা হয় তখন আমিও সেখানে ছিলাম এবং এ গানের সুরের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরামর্শ দিই। বাসব চট্টোপাধ্যায়-এর বড় ভাইও ওই সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি রিদমটা ভালো বুঝতেন। আমিই প্রথম এ গান কুমিল্লায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গেয়েছি। পরে এ গান স্বপ্না রায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গেয়েছেন।"
Comments
Post a Comment