STORY BEHIND THE SONG & TWIN TUNES.
গানের পিছনের গল্প ও যমজ সুর।


" আমার সোনার বাংলা "
রবীন্দ্র সঙ্গীত


"আমার সোনার বাংলা" 
'জীবন থেকে নেয়া' (১৯৭০) ছায়াছবির গান

"আমি কোথায় পাব তারে" 
'রাই কমল' ছায়াছবির গান



কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মুগ্ধ হয়েছিলেন বাউল গানের সহজ সুর এবং বাংলার সাধারন মানুষের কাছে সেই সুরের প্রভাবে। বাউল গানের ছন্দের প্রকৃতি ও তার চলনও তাঁকে মুগ্ধ করে। বাউল বস্তূতান্তিক মতবাদ সম্পর্কে তিনি সাধারনের থেকে বেশি অবহিত হলেও, তা তাঁর ব্যক্তিগত মতবাদ বা ধর্মবিশ্বাসকে অতিক্রম করেনি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাউল গানের রসগ্রাহী ছিলেন এবং তাঁর সমাদর করতেন, তৎকালীন বঙ্গসমাজে তাকে জনপ্রিয় করে তোলার পিছনে তাঁর অবদানও অনস্বীকার্য।

১৮৯০ সালে সপরিবারে শিলাইদহে থাকাকালীন বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন,
"আমরা যখন শিলাইদহে ছিলুম তখন রোজ রোজ আমাদের বোটে সেখানকার গ্রাম্য গাইয়েদের আমদানি হত। একজন বোষ্ণম- সে কাঙ্গাল ফিকিরচাঁদ ফকিরের গান গাইত, আর একজন নেড়ে এবং বাচ্চা- তার গান নানারকম। তার নাম সুনা-উল্লা।"

বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর সুনা-উল্লার দশ-বারটি গানের নকল করে রেখেছিলেন, তার মধ্যে একটির রচয়িতা শিলাইদহের ডাক-হরকরা গগন মণ্ডল। গানটি রবীন্দ্রনাথের বিশেষভাবে প্রিয় ছিল ও পরে তিনি এটি ভেঙে ‘আমার সোনার বাংলা’ গান লেখেন যা পরে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতরূপে গৃহীত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গগন হরকরা'র বর্ণিত মনের মানুষের কথা প্রথম শোনেন ১৮৯০ সালে এবং সেটি ভেঙে ‘সোনার বাংলা’ লেখেন ১৯০৫ সালে, বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রাক্কালে। 

উল্লেখ্য, বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর পিতা ছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের চতুর্থ পুত্র বীরেন্দ্রনাথ ঠাকুর। বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বীরেন্দ্রনাথের একমাত্র সন্তান। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, 
"গানের কথা নিতান্ত সহজ, কিন্তু সুরের যোগে এর অর্থ অপূর্ব জ্যোতিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল।"

গগন হরকরা'র বহুল-প্রচারিত এই বাউল গানটি আজ আর কারো অজানা নয়-

‘আমি কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে।
হারায়ে সেই মানুষে, তার উদ্দেশে, দেশ-বিদেশে বেড়াই ঘুরে।‘

                                                                       গগন হরকরা

Comments

Popular posts from this blog