SONGS in PAIRS with the STORY BEHIND.
জোড়ায় জোড়ায় গান
পিছনের গল্প সহ।
এবারের রাগ "
ঝিঁঝোটি "
এই পোস্টের দুটি
গান একই রাগ 'ঝিঁঝোটি'-এর উপর ভিত্তি করে
সৃষ্ট প্রায় একই সুরে দুটি গান। “আমি যে জলসাঘরে,
বেলোয়ারি ঝাড়” এবং “মেরে মেহেবুব,
তুঝে মেরি মহব্বত কী কসম”। একই রাগের উপরে
সৃষ্ট গানসমূহ সবসময় একসঙ্গে একই সুরের চলনে চলে, বলা যায় সৈনিকদের এক তালে মার্চ করে যাওয়ার মত করে
চলে। কোন সঙ্গীত পরিচালক একটি নির্দিষ্ট রাগের উপর ভিত্তি করে যখনই একটি গান রচনা
করেন তখন তিনি নিশ্চিত হয়ে নেন যে, তিনি সেই রাগের বন্দিশ ব্যবহার করছেন। একই রাগের উপর ভিত্তি করে সৃষ্ট দুটি
গান শুনতে প্রায় একই রকম লাগে। মনে হয় গান দুটি সবসময় একই সুরকে অনুসরণ করছে,
বুঝিবা একই সুরে গাঁথা। বন্দিশ,
সঙ্গীতের এমন একটি উপাদান যা একটি
নির্দিষ্ট রাগের উপর ভিত্তি করে সুর সৃষ্টিতে প্রভাব বিস্তার করে।
গান দুটির ভিডিও নিচে দেয়া হল। গান শুনতে চাইলে ভিডিওতে ক্লিক করুন।
১) অনুপ্রাণিত আধুনিক
বাংলা গান
“ আমি যে জলসাঘরে,
বেলোয়ারি ঝাড় “
শিল্পীঃ মান্না দে
সঙ্গীত পরিচালকঃ
অনিল বাগচী
গীতিকারঃ
গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
ছায়াছবিঃ এন্টোনি
ফিরিঙ্গি (১৯৬৭)
২) মূল হিন্দি গান
“ মেরে মেহেবুব,
তুঝে মেরি মহব্বত কী কসম ”
শিল্পীঃ মহম্মদ
রফি
সুরকারঃ নৌশাদ
গীতিকারঃ শাকিল
বাদায়ুনী
ছায়াছবিঃ মেরে
মেহবুব (১৯৬৩)
মহানায়ক
উত্তমকুমার-এর সঙ্গে অধীর বাগচী’র ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে কাজের সূত্রে, ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ ছবি তৈরির সময়। অধীর বাগচী তখন এক ওষুধের কোম্পানিতে সেলসের কাজ
করতেন। আসলে প্রখ্যাত সুরকার অনিল বাগচী অধীর বাগচী’র বাবা হলেও জীবনে সে খুব
স্ট্রাগল করেছে। এবার অধীর বাগচী’র কাছ থেকে
জানা যাক গানের পিছনের গল্প।
“ তখন আমি কাজের
সূত্রে আসাম অঙ্গরাজ্যের রাজধানী শহর গুয়াহাটিতে ছিলাম। বাবা আমাকে চিঠিতে লিখলেন,
‘ভুটু, ছবির জন্য একজন প্রোডিউসার এসেছিলেন। একটা হিন্দি
গান শুনিয়ে তাঁর বাংলা করতে বললেন, আমি তাঁকে দুর দুর করে তাড়িয়ে দিয়েছি।’
তার পর আমি কলকাতা
ফিরেই খুঁজে খুঁজে উত্তমদা'র
বাড়ি যাই। আমাকে দেখে বললেন,
‘কে! চেনা চেনা
লাগছে!’
বললাম,
'আমি অনিল বাগচীর ছেলে।'
'আমি অনিল বাগচীর ছেলে।'
তখন উত্তমদা বললেন,
‘জানো, তোমার বাবার কাছে একজন প্রোডিউসারকে পাঠিয়েছিলাম একটা ছবির ব্যাপারে। সাবজেক্টটা তোমার বাবা ছাড়া কেউ পারবেন না।’
‘জানো, তোমার বাবার কাছে একজন প্রোডিউসারকে পাঠিয়েছিলাম একটা ছবির ব্যাপারে। সাবজেক্টটা তোমার বাবা ছাড়া কেউ পারবেন না।’
জানতে পারলাম সেই
প্রোডিউসারের নাম ছিল ভোলানাথ রায়। আমি ঠিকানা জোগাড় করে পরদিন তাঁর বাড়িতেও
গেলাম। তিনি বললেন,
‘না বাবা, আমি আর যাব না। একটা গান আছে না ‘মেরে
মেহেবুব, তুঝে মেরি মহব্বত কী
কসম’। এই গানের ক্যাসেটটা নিয়ে গিয়েছিলাম তোমার বাবা অনিলবাবুর কাছে। উনি ছুঁড়ে
ফেলে দিলেন। আসলে আমি কিছু গান দিয়েছিলাম তাঁকে, এই ধরনের সুরে গাওয়ার জন্য।’
সব শুনে
ভোলাবাবুকে আশ্বাস দিয়ে ফিরে এলাম। পরদিন সকালে আমি ওই গানের সুরটাকে মাথায় রেখে
করলাম, ‘আমি যে জলসাঘরে,
বেলোয়ারি ঝাড়’। বাবা কাগজ পড়ছিলেন।
শুনে বললেন,
‘বাহ, কোথা থেকে পেলি রে?’
আমি বললাম,
'এই তো তোমার
খাতার মধ্যেই গানগুলো আছে।'
বাবা শুনে বললেন,
‘দারুণ হয়েছে। তুই
সুর কর, আমি দেখছি।’
এর পর এ নিয়ে
তৃতীয়বার উত্তমদা'র বাড়ি
গেলাম। গানটা শোনালাম তাঁকে। উত্তমদা গান শুনে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন,
‘আরে কী করেছিস!’
এর পর বাবার কাছে গিয়ে আমাকে দিয়ে ছবির গান গাওয়ানোর কথা বললেন।
বাবা বললেন,
‘আনএথিকাল,
আনজাস্টিফায়েড। একটা ষোলো-সতেরো বছরের
ছেলে এ কাজ করবে! হতেই পারে না! আমি অধীরকে দিয়ে জলসাঘরে গানটা গাওয়াব! ওর গলায়
সেই ম্যাচুরিটিই আসেনি। সেই এক্সপ্রেশনটাও তো পাব না।’
বাবাকে বললাম,
আমি তো গাইব না।
কিন্তু মান্না দে’কে দিয়ে গাওয়ালে কেমন হয়? উনি তো হিন্দি ছবিরও গান গাইছেন।
বাবা শুনে বললেন,
‘কে? কেষ্টবাবুর ভাইপো? তা ঠিকই বলেছিস।’
মান্না দে রাজি হলেন গাইতে। অবশেষে সমস্যার সমাধান হল। কিন্তু ‘অধীর বাগচী’ বললে ষোলো-সতেরো বছরের আমাকে তো কেউই চিনবে না। তাই সুরকার হিসেবে শেষমেশ বাবার নামই (অনিল বাগচী) থাকল। "
বাবা শুনে বললেন,
‘কে? কেষ্টবাবুর ভাইপো? তা ঠিকই বলেছিস।’
মান্না দে রাজি হলেন গাইতে। অবশেষে সমস্যার সমাধান হল। কিন্তু ‘অধীর বাগচী’ বললে ষোলো-সতেরো বছরের আমাকে তো কেউই চিনবে না। তাই সুরকার হিসেবে শেষমেশ বাবার নামই (অনিল বাগচী) থাকল। "
অধীর
বাগচী

Comments
Post a Comment